এক কৃষকের এক গাধা ছিল। হাঁটুর বয়স থেকে গাধাটি কৃষকের বাড়িতে কাজ করত। সে ছিল কৃষকের হাতধরা। কিন্তু বয়স বাড়ায় হাড় হাভাতে হালে পানি পেল না। আর কৃষক ভাবল, গাধার ঘাড়ে দুর্বা গজিয়েছে। তার মনে হল সে যেন গাধাটির জন্য হাতির খোরাক জোগাড় করছে। তাই সে গাধাটিকে বিক্রি করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিল। একথা শুনে হস্তিমূর্খ গাধার তো হাঁড়ির হাল। সে কিছুক্ষণ হাপিত্যেশ করল। তার হাত পা যেন পেটের মধ্যে ঢুকে যাচ্ছিল। সে বুঝল যে হম্বিতম্বি করে কোন লাভ নেই, এতে ঘটনা হিতে বিপরীত হবে। তাই সে হতচ্ছাড়া সিদ্ধান্ত নিল বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়ে হাড় জুড়াবে। করলও তাই। বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়েই সে হাড়ে বাতাস লাগাল। তার হ্রস্ব দীর্ঘ জ্ঞান কম ছিল। প্রথম অবস্থায় সে হিমসিম খাচ্ছিল কিন্তু তারপরও চেষ্টা করছিল হাতির পাঁচ পা দেখার। সে ভাবল, যে করেই হোক হাত দিয়ে হাতি ঠেলতে হবে। কিন্তু একা চলতে চলতে সে হ-য-ব-র-ল অবস্থায় পড়ে গেল। সে পৃথিবীটাকে যেন হাড়ে হাড়ে চিনতে পারল। একে তো তার হাতের পাঁচ কিছু ছিল না তার উপর সে বাইরের হাড়হন্দ কিছুই জানত না। তার হাতটানও ছিলনা কখনও। তাই সে হাল ছেড়ে দিল। অন্যদিকে গাধাটিকে খুঁজে না পেয়ে কৃষকের হামবড়া ভাব চলে গেল। সে বুঝল যে হাতের লক্ষ্মী পায়ে ঠেলে দিয়েছে সে। সে আক্ষেপ করতে লাগল এই বলে যে, তার অবস্থাতো হাত ঝাড়া দিলে পর্বত নয়, তাহলে কেন সে হরিষে বিষাদ ডেকে আনল।
Comments
Post a Comment