বাগধারা দিয়ে গল্প: কুঁড়ের বাদশা নির্বাচন

 এক রাজা কুঁড়ের বাদশা নির্বাচন করবেন বলে ঠিক করলেন। সারা দেশ থেকে কুঁড়েদের আনার জন্য কাজের কাজি নিযুক্ত করলেন। সারা দেশ থেকে কুঁড়েরা এসে রাজ প্রাসাদে থাকতে শুরু করল। তাদের যেন কপাল ফিরে গেল। কানাকড়ি দিতে হয়না অথচ কলা দেখিয়ে কেঁচো দিয়ে কাতলা ধরার এমন সুযোগে অনেকেই কুঁড়ে বনে গেল। রাজপ্রাসাধে শুরু হয়ে গেল কিষ্কিন্ধ্যাকান্ড। রাজা দেখলেন এরকম কিছুদিন চললে কুবেরের ভান্ডার কুবেরের ধনও শেষ হয়ে যাবে। তাই তিনি কেঁচে গন্ডুষ করে ভাবতে শুরু করলেন। বুদ্ধিও পেয়ে গেলেন। মনে মনে ভাবলেন এবার বুঝবে বেটারা কত ধানে কত চাল। তিনি সব কুঁড়েকে একটি বড় ঘরে থাকতে দিলেন। তারপর তাতে দিলেন আগুন। প্রথমে উত্তাপ ছিল কুসুম কুসুম। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই তা হয়ে গেল কুল কাঠের আগুন। নকল কুঁড়েরা আগে থেকেই কান খাঁড়া করে রেখেছিল। তারা বুঝল যে কেঁচো খুড়তে সাপ বেড়িয়ে এসেছে। কেবলা হাকিমরা তাড়াতাড়ি পালাতে শুরু করলা। কেউ কেউ কিছুক্ষণ কলজের জোর দেখাল। কিন্তু বেশিক্ষণ কুদরত রাখতে পারল না। কিছুক্ষণের মধ্যেই কুরুক্ষেত্র কান্ড শুরু হয়ে গেল। কিন্তু একজন কুঁড়েকে কাবু করা গেল না। এই কিম্ভুতকিমাকার লোকটা যেন ছিল কানে খাটো। ওকে কচুকাটা করলেও ও যেন টের পাবে না। এমন কাঁঠালের আমসত্ত্ব কালে ভদ্রেও দেখা যায় না। রাজা খুঁজে পেলেন তার কাঙ্খিত লোক। তাড়াতাড়ি আগুন নিভিয়ে কৃষ্ণের জীবটাকে বের করে আনলেন।

Comments